ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একদিনে ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮৪ গুলশানসহ ঢাকার সব লেকের দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় যেতে হবে: হাবিব সন্ত্রাস দমনে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বিশাল অভিযান আগামী জুনের আগেই শেষ হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি নবম পে স্কেল চূড়ান্ত ধাপে: প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে প্রাইজবন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা, এক বছরে বিক্রি কমল ২১% সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তন: নমিনির বয়সের নতুন সীমা ৮০ বছর আগুনে সর্বস্ব হারাল সিংড়ার ইসমাইলের পরিবার মক্কায় ড্রোন হামলা: 'প্রতিরক্ষা চুক্তি' সক্রিয় করতে চায় পাকিস্তান

প্রাইজবন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা, এক বছরে বিক্রি কমল ২১%


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৫০ পিএম

নিশ্চিত রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও সরকারের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিনিয়োগ মাধ্যম প্রাইজবন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ সঞ্চয়কারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতে নতুন সঞ্চয়ের পরিমাণ যেমন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, তেমনি প্রাইজবন্ড বিক্রি ও লটারির ড্র বাবদ সরকারের অর্থ পরিশোধের হারও ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে প্রাইজবন্ডকে হাতিয়ার করে জনগণের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের যে বৃহৎ সুযোগ ছিল, সেখানে তীব্র ভাটা পড়েছে। উপযুক্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব এবং বাজারে এর চেয়ে সহজলভ্য ও অধিক লাভজনক বিকল্প সঞ্চয়ী মাধ্যমের উপস্থিতি প্রাইজবন্ডকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালুর প্রস্তাব উঠেছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে প্রাইজবন্ড বিক্রির এই টানা মন্দার চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাইজবন্ড বিক্রির মোট পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড বিক্রি হলেও সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে নেমে এসেছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রাইজবন্ড বিক্রির পরিমাণ কমেছে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা শতকরা হিসাবে ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। ফলে এই খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাচ্ছে না সরকার।


বিক্রি হ্রাসের পাশাপাশি প্রাইজবন্ডের বিপরীতে সরকারের সার্বিক অর্থ পরিশোধের চিত্রেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাইজবন্ডের মূল বিনিয়োগ বাবদ গ্রাহকদের ৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। একই সময়ে লটারির বিজয়ীদের ড্র বাবদ প্রদান করা হয় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মূল পরিশোধের অংক বাদ দিয়ে ওই অর্থবছরে প্রাইজবন্ডের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছিল ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। তবে মূল টাকা ও লটারি ড্র মিলিয়ে মোট ১১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়, যা সরকারের অর্জিত মোট বিক্রির চেয়ে ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি ছিল। ওই অতিরিক্ত অর্থ অন্য খাত থেকে এনে সাকুল্যে জোগান দিতে হয়েছিল।


অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল বিনিয়োগ পরিশোধের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় এবং লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয় ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। এই হিসাব থেকে মূল টাকা বাদ দিলে নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছিল ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উক্ত অর্থবছরে মূল বিনিয়োগ ও ড্র মিলিয়ে মোট পরিশোধ করতে হয় ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা বছরের মোট বিক্রির চেয়ে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি ছিল। এই বাড়তি অর্থও সরকারকে অন্য খাত থেকে জোগান দিতে হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে মূল অর্থ পরিশোধ ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। একই সাথে নিট বিক্রি কমেছে ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।


স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জনগণের বিনিয়োগ ও সঞ্চয় উৎসাহিত করতে প্রাইজবন্ড চালু করেছিল সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ টাকা ও ৫০ টাকা মূল্যমানের বন্ড চালু হলেও ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে ১৯৯৫ সালে সেগুলো বাতিল করা হয় এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রবর্তন করা হয়। একসময় বিবাহ, জন্মদিন কিংবা যেকোনো পারিবারিক সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রাইজবন্ড উপহার দেওয়ার চমৎকার সংস্কৃতি দেশে প্রচলিত ছিল। যেকোনো ব্যক্তির হাতে হস্তান্তরযোগ্য এবং 'যার হাতে থাকবে তিনিই মালিক' হওয়ার কারণে এটি সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল।


বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, ডাকঘর ও জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো থেকে এটি সরাসরি কেনা যায়। এতে সরাসরি নির্দিষ্ট মুনাফা না থাকলেও বছরে চারবার লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৪৬টি সিরিজের প্রতিটিতে প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় পুরস্কার সোয়া ৩ লাখ টাকাসহ মোট ৪৬টি করে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার জয়ের দুই বছরের মধ্যে অর্থ দাবি করতে হয় এবং জয়ের ওপর ২০ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হয়। প্রাইজবন্ডকে পুনরায় জনপ্রিয় করতে বন্ডের মান ১ হাজার টাকায় উন্নীত করার জোর দাবি উঠেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর